• হোম > বিদেশ > যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকবে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকবে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

  • শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১৫:০৮
  • ৬৫

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সাম্প্রতিক বেইজিং সম্মেলনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব মিলিয়ে এই বৈঠককে চলতি বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্মেলনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুল আলোচিত এই ট্রাম্প-শি বৈঠক বাস্তব অর্থনৈতিক অর্জনের চেয়ে বেশি ছিল কূটনৈতিক সৌজন্য, উষ্ণ বক্তব্য এবং প্রতীকী বার্তায় ভরপুর। দীর্ঘ আলোচনার পরও বড় ধরনের কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা কাঠামোগত সমঝোতার ঘোষণা না আসায় আন্তর্জাতিক বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের একাধিক নির্বাহী কর্মকর্তা। বিশেষভাবে আলোচনায় ছিলেন Elon Musk এবং Jensen Huang। সফরের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), চিপ প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এই সম্মেলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি চীনের সঙ্গে “অসাধারণ সব বাণিজ্য চুক্তি” করেছেন, যা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। তবে বাস্তবে ঘোষিত বড় সিদ্ধান্ত বলতে ছিল চীনের ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনা। প্রায় এক দশক পর চীনের এমন বড় বাণিজ্যিক বিমান কেনার আগ্রহ আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পে নতুন আশার সঞ্চার করলেও মার্কিন বিশ্লেষকদের অনেকে আরও বড় অর্ডারের প্রত্যাশা করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হোক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে বড় অগ্রগতির বদলে পুরোনো বিরোধগুলোই বেশি সামনে এসেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে শি জিনপিংয়ের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ এমনকি যুদ্ধও হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বেইজিং প্রথমবারের মতো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাইওয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে উঠছে।

এদিকে প্রযুক্তি খাতের আধিপত্য নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো উন্নত সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে চীন এসব প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এআই নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তার মতে, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইরান সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ট্রাম্প চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। চীনও আন্তর্জাতিক নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সম্মেলন হয়তো তাৎক্ষণিক বড় চুক্তি এনে দিতে পারেনি, কিন্তু এটি ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10145 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 08:52:37 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh