নতুন বছর, নতুন মিশন আর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আবারও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামীকাল চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২০২৬ সালে এটিই হবে টাইগারদের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন চট্টগ্রামের দিকে, কারণ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতেও দাপট দেখাতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে খুব বেশি কথা বলে না। এখন পর্যন্ত দুই দল টি-টোয়েন্টিতে ২০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৪ ম্যাচে, আর নিউজিল্যান্ড জিতেছে ১৫টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। দুই দলের মধ্যকার ছয়টি টি-টোয়েন্টি সিরিজের মধ্যে নিউজিল্যান্ড জিতেছে চারটি, বাংলাদেশ একটি এবং একটি সিরিজ ড্র হয়েছে। তবে দেশের মাঠে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো তথ্যও রয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের ছয় ম্যাচের মধ্যে উভয় দলই তিনটি করে জয় পেয়েছে।
ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় ছিলেন নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজ, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তরুণ ও আক্রমণাত্মক এই দল নিয়েই কিউইদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে ব্যাটিং লাইনআপে আছেন সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেনের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে রিশাদের পারফরম্যান্স ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইস সোধিও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন রিশাদ হোসেনকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রিশাদ আধুনিক ক্রিকেটে বিরল ধরনের লেগ স্পিনার, যে বল অনেক ঘোরাতে পারে এবং বাড়তি বাউন্স আদায় করতে সক্ষম। বিগ ব্যাশে তার বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান সোধি।
তিনি আরও বলেন, রিশাদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং ভবিষ্যতে তাকে টেস্ট ক্রিকেটেও দেখা যেতে পারে। সোধির মতে, বর্তমান সময়ে ভালো লেগ স্পিনার খুব কম দেখা যায়, আর রিশাদের মধ্যে সেই বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রিশাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন সোধি।
বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদও রিশাদের উন্নতি নিয়ে আশাবাদী। তার ভাষায়, রিশাদকে আরও কার্যকর বোলারে পরিণত করতে গুগলি, ক্রিজ ব্যবহার এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রায় পাঁচ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সবশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে টাইগারদের। নতুন বছর ও নতুন সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই—নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়া।