![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি ইস্যুতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিকা উইটের নাম। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, ইরানে পালিয়ে থাকা এই সাবেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। তাকে ধরিয়ে দিতে বা তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে তথ্যদাতাকে ২ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মনিকা উইট ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত মার্কিন সরকারের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা নথিতে প্রবেশাধিকার পান। এসব নথির মধ্যে বিভিন্ন দেশে কর্মরত মার্কিন গোপন এজেন্টদের প্রকৃত পরিচয় এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতার সংবেদনশীল তথ্যও ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে মনিকা উইট ইরানে চলে যান এবং এরপর থেকে ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে।
এফবিআই আরও জানিয়েছে, মনিকা উইটের দেওয়া তথ্যের কারণে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। একইসঙ্গে তিনি ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস বা আইআরজিসিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক কাজে সহায়তা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল উইয়ারজবিকি বলেন, মনিকা উইট যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি দেওয়া শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি নিজের দেশের নিরাপত্তা তথ্য বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন। এ কারণেই তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মনিকা উইট বর্তমানে ইরানেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ফারসি ভাষায় দক্ষ এবং “ফাতেমাহ জাহরা” ও “নার্গিস উইট” নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ওয়াশিংটনের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এদিকে এফবিআই সাধারণ জনগণকে মনিকা উইট সম্পর্কে যেকোনো তথ্য স্থানীয় তদন্ত অফিস, মার্কিন দূতাবাস অথবা নির্ধারিত তথ্য প্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।