• হোম > দেশজুড়ে > ঈদের বেতন-বোনাস নিয়ে সংকটে পড়তে পারে প্রায় অর্ধশত কারখানা

ঈদের বেতন-বোনাস নিয়ে সংকটে পড়তে পারে প্রায় অর্ধশত কারখানা

  • বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৪৩
  • ৬০

---

চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত কারখানায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিল্প পুলিশের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮টি কারখানায় প্রায় ২৪ হাজার শ্রমিক ও স্টাফের পাওনা পরিশোধ ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১০টি জোনে চিহ্নিত এসব কারখানায় প্রায় ২১ হাজার ৪৮১ জন শ্রমিক এবং ২ হাজার ২১ জন স্টাফ কর্মরত আছেন। গত ঈদুল ফিতর-এর সময় যেসব কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তার অধিকাংশই এবারও তালিকায় রয়েছে। ফলে ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের আশঙ্কা বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেইপিজেড এলাকার চারটি কারখানায় ৩ হাজার ৯৪৩ জন শ্রমিক ও ৪৩১ জন স্টাফ কর্মরত আছেন। সিইপিজেড এলাকার আটটি কারখানায় ৪ হাজারের বেশি শ্রমিক ও স্টাফ বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এছাড়া চান্দগাঁও জোনে সবচেয়ে বেশি ১৪টি কারখানার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক ও স্টাফ ঝুঁকিতে আছেন।

মার্স টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি সুতা কারখানায় প্রায় ৮৬০ জন শ্রমিক ও স্টাফ বেতন-ভাতা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ইতোমধ্যে লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, অনেক সময় শুরুতে সমস্যা না থাকলেও পরে হঠাৎ অসন্তোষ তৈরি হয়, তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে মোট ১ হাজার ৬৭৬টি কারখানার মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে এপ্রিলের বেতন, মে মাসের আংশিক বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিছু কারখানা ইতোমধ্যে এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, কোভিড-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ছাঁটাই ও ব্যয় সংকোচনের মধ্যেও টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী ইপিজেড-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ বলেন, তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে এবং বোনাস দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টং ফুড ওয়্যার কারখানার শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10077 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 12:13:53 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh