• হোম > বাংলাদেশ > গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

  • মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১৫:৫১
  • ৬০

---

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখনই গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বাস্তবমুখী দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি। গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনের ঘাটতি এর মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন থেকেই গবেষণার পরিবেশ শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, বিগ ডাটা, বায়োটেকনোলজি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো প্রযুক্তি কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে প্রচলিত মুখস্থভিত্তিক শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করতে হবে। এজন্য পাঠ্যক্রমে শিল্পখাতের চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করা, ইন্টার্নশিপ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সংযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্যাম্পাসে স্টার্টআপ আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন সেন্টার, সায়েন্স পার্ক এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রিভিত্তিক না রেখে উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোলেও দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10056 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 01:04:42 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh