![]()
ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের হামলার ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে নেসেট ভবনের সামনে শত শত মানুষ সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, ওই দিনের ঘটনার পূর্ণ সত্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার ৭ অক্টোবরের হামলার পর যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, এই ব্যর্থতার দায় সরকার এড়াতে পারে না, বরং তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে পৃথক বিক্ষোভে ইসরাইলি নাগরিকরা আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি—গাজা, লেবানন ও ইরান ইস্যুতে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, এই সংঘাতগুলো দেশকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ অপহৃত হওয়ার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এই অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন দেশটির অভ্যন্তরেও সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ বলছে, সরকারের নীতি জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংকট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি ইসরাইলি রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিভাজন ও আস্থার সংকট তৈরি করছে।