• হোম > দক্ষিণ আমেরিকা | বিদেশ > ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি ‘গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা’ করছি: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি ‘গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা’ করছি: ট্রাম্প

  • মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:৩৭
  • ৫৬

---

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। Fox News-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিষয়টি তার প্রশাসন “গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা” করছে।

এর আগেও ট্রাম্প কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা ও কিউবাসহ বিভিন্ন সার্বভৌম দেশ ও অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে নিতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সম্পৃক্ততার কথাও আলোচনায় এসেছে।

জন রবার্টস জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি শুনেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পরিকল্পনা নিয়ে “গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন”।

মাদুরো গ্রেপ্তারের পর থেকে White House-এর কর্মকর্তারা নিয়মিত কারাকাস সফর করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও খনিজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছেন এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ-এর প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-কে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ায় ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের গুরুত্ব নতুন করে বেড়েছে।

তবে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন এবং ভেনেজুয়েলার সম্মতি ছাড়া দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ঘোষণা করা সম্ভব নয়। এদিকে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।

ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ছিল “সামরিক মেধার অসাধারণ উদাহরণ”। গত ১০ মে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলা এখন খুব সুখী একটি দেশ। আগে তারা দুর্দশায় ছিল, এখন তারা ভালো আছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, দেশটিতে বর্তমানে বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল উত্তোলন হচ্ছে এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এখনো কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি। এতে সমালোচকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে সরে আসছে বর্তমান প্রশাসন। কারণ ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভেনেজুয়েলা “পরিচালনা” করবে।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচন “কোনো একসময়” অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি উপদেষ্টা জ্যারেড এজেন Politico-কে বলেন, “আমরা এখন স্থিতিশীলতার পর্যায়ে আছি। মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি চুক্তিগুলো সচল রাখা এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা।”

এরই মধ্যে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে। পাশাপাশি গত মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও আবার শুরু হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10044 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 11:54:57 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh