• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

  • মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:৩২
  • ৫০

---

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় এই দেশটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে সক্রিয় সামরিক পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও এতদিন যুদ্ধে ইরানের অন্যতম সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই আরব আমিরাতকে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

সূত্রগুলোর দাবি, পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। গত এপ্রিলের শুরুতে সংঘটিত ওই হামলায় শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং এর উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যদিও আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে দেশটির আগের বিবৃতিগুলোতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সামরিক জবাব দেওয়ার অধিকার রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

হামলার পর ইরান দাবি করে, শত্রুপক্ষ তাদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কুয়েত ও আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আরব আমিরাতের ওপর ২ হাজার ৮০০টির বেশি মিসাইল ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যা ইসরায়েলের ওপর চালানো হামলার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এসব হামলায় দেশটির বিমান চলাচল, পর্যটন ও আবাসন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আরব আমিরাত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করছে। দেশটির সামরিক বাহিনীতে রয়েছে আধুনিক Dassault Mirage 2000 ও F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন ও আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ সক্ষমতা। গবেষকদের মতে, ইরানের আকাশে দেখা যাওয়া কিছু যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের ধরন আরব আমিরাতের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে মিলে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, উপসাগরীয় কোনো আরব দেশের সরাসরি ইরানে হামলা চালানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তার মতে, তেহরান এখন অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে আরব আমিরাতের সম্পর্ক দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশ যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছিল, তারা নিজেদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। কিন্তু পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ও সামরিক সুবিধা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

লন্ডনের Royal United Services Institute-এর সিনিয়র ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেন, আরব আমিরাত সরাসরি হামলার কথা স্বীকার না করলেও যুদ্ধের শুরু থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে পরিস্থিতি জটিল হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক সম্পৃক্ততা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এদিকে আরব আমিরাত শুধু সামরিকভাবেই নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান জোরদার করেছে। দেশটি জাতিসংঘে এমন একটি প্রস্তাবের খসড়াকে সমর্থন দিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচেটিয়া আধিপত্য ও অবরোধ ভাঙতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট স্কুল ও ক্লাব বন্ধ করা এবং ইরানি নাগরিকদের ভিসা ও ট্রানজিট সুবিধা সীমিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও ক্রমশ সরাসরি এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10040 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 11:55:22 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh