• হোম > বাংলাদেশ > ধুঁকতে থাকা পোশাক কারখানায় প্রণোদনা দেবে সরকার, ব্যবসা-বিনিয়োগে নতুন নীতি সহায়তার আশ্বাস

ধুঁকতে থাকা পোশাক কারখানায় প্রণোদনা দেবে সরকার, ব্যবসা-বিনিয়োগে নতুন নীতি সহায়তার আশ্বাস

  • সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২০:৫৪
  • ৬৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং ধুঁকতে থাকা গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান, উৎপাদন সংকট, রপ্তানি চাপ ও ব্যাংক ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া অনেক কারখানাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা দেশের পোশাক খাতের বর্তমান সংকট, রপ্তানি কমে যাওয়া, ডলার সংকট, ঋণ জটিলতা এবং বিনিয়োগ বাধার নানা বিষয় তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বিনিয়োগ সহজ করতে কোন কোন খাতে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা লিখিতভাবে জমা দিতে বলেছেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রস্তাব দেওয়া হলে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কিন্তু ধুঁকে ধুঁকে চলছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত পুনর্বাসন তহবিল থেকে এসব কারখানা সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাবে বলে আলোচনা হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি রক্ষা পাবে এবং দেশের রপ্তানি খাতও নতুন গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতির সমালোচনাও করেন। বিশেষ করে উচ্চ সুদহার, ঋণ অনুমোদনে জটিলতা, এলসি খোলার সীমাবদ্ধতা এবং ডলার সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার এখন শুধু পোশাক খাত নয়, রপ্তানি বহুমুখীকরণেও জোর দিচ্ছে। তিনি জানান, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি রেশম কারখানাগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকার ঘোষিত এই প্রণোদনা বাস্তবায়িত হলে সংকটে থাকা পোশাক শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং শ্রমবাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী নীতি সহায়তা এবং সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে সক্ষম হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10022 ,   Print Date & Time: Monday, 12 October 2026, 05:29:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh